বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, জয় বাংলা নহে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পটভূমি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ করেছিলো। সেদিন ক্যান্টনমেন্টের ব্যারাক থেকে সকরে নারায়ে তাকবিরের স্লোগান দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো। খালেদ মোশাররফ সাভার পর্যন্ত পালিয়ে যেতে পারছিলেন, আবার ধরা পড়ছেন। এই বিদ্রোহের খবর যখন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো তখন সমগ্র মানুষ ঘুমের থেকে জেগে উঠে রাস্তায় নেমে আবার নারায়ে তাকবিরের স্লোগান দিয়েছিলো। বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, জয় বাংলা নহে।
ডা. তাহের বলেন, ‘শাসন ক্ষমতা হতে নেওয়ার পর থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছিলেন। এর প্রধান কারণ ছিলো উনি সুশাসন দিতে পারেন নাই। উনি শাসনের চেয়েও ভাষণ ভালো দিতেন। তাদের লোকজন শুধু লুটপাট করেছে। মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি, নারীদের উপর অত্যাচার, ব্যাংক লুট করেছিলো। মানুষের ক্ষুব্ধতা এতো বেড়েছিলো যে এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় নেতা আততায়রি হাতে মারা গিয়েছিলেন এবং তার মৃত্যুতে কেউ আওয়াজ করে ইন্না-লিল্লাহ পড়েননি। এটা প্রমাণ করে যে জনপ্রিয় নেতাও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জন-নিন্দিত হতে পারে।’
তিনি দেশের জনগণের দীর্ঘ ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে জনগণ অনেককে দেখেছে, কিন্তু দুর্নীতি থেকে মুক্তি মেলেনি।
বিএনপি নেতৃত্বের সমালোচনা করে ডা. তাহের বলেন, ‘আজকের বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নেই। সেখানে সন্দেহ আছে। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তার অনুসারীরাই এখন কেন যেন তা চাইছেন না। তিনি বিএনপি নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তারা বুঝতে চান না, মানুষ পরিবর্তন চায়।’
তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের আমলের মতোই জনপ্রিয় দল এখন জামায়াতে ইসলামী। জনগণ চাঁদাবাজদের ভোট দিতে চায় না। এখনকার নয়, জিয়াউর রহমানের বিএনপির মতোই জনপ্রিয় দল আমরা।
সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান জুলাই অভ্যুত্থান এবং সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ছিল না, ছিল সাধারণ মানুষ। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই গণভোট হতে হবে, এবং এরপর মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা উচিত।’
ডা. তাহের গণভোটের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘গণভোট আগে হলে ৮০ শতাংশ ভোট বলবে জনগণ সংস্কার চায়। জনগণ যা চায় না, তা চাপিয়ে দিলে হতাশা তৈরি হবে। তাই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হওয়াই উচিত।’
