সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিয়াউর রহমানের ‘স্ত্রী’ সম্বোধন করায় তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।
সোমবার (১০ নভেম্বর) কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার শোকজ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্যকালে বেগম খালেদা জিয়ার স্থলে শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করেন মেহেদী হাসান। পরে এ ঘটনার ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও ভাইরালের পর ওই বিএনপি নেতা জানিয়েছেন বিষয়টি ছিলো ‘স্লিপ অব টাং’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর বেলা ১১টায় তিতাস উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় তিতাস ভবনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গণি ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার। এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অর্ধাঙ্গিনী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’ এ কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা ‘ভুল হয়েছে’ বলতে শুরু করেন। তখন মেহেদী হাসান ‘স্যরি’ (দুঃখিত) বলে আবারও বক্তব্য দিতে থাকেন।
পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জানতে চাইলে মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, ওই দিন আলোচনা সভাটি আমি পরিচালনা করছিলাম। এক পর্যায়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বাধীন বাংলার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলতে গিয়ে ভুলে শেখ হাসিনার নাম চলে আসে। এটি ছিল একটি ‘স্লিপ অব টাং’ এবং আমার অজান্তে এই ভুলটি ঘটে। যে কারণে সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সকলের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি।
তিনি আরও দাবি করেন, একটি মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দুইদিন পর ৯ নভেম্বর সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্যের অংশ বিশেষ ভাইরাল করেন। কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছি; নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জবাব পাঠাবো।
কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার বলেন, যেহেতু বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে ভাইরাল হয়েছে সেহেতু দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
