মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির অভিযোগ, অস্বীকার করলেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ২০:১২

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ‘বন্ধ করার চেষ্টা’ হয়েছে—এ অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। তারা বলেছে, সংবাদ সম্মেলনের আগের রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস এবং সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে বাসা থেকে ডিবি পুলিশ নিয়ে যায়। মিজানুরকে সকালে ছেড়ে দেওয়া হলেও পিয়াস ডিবি হেফাজতেই ছিলেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পেছনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জড়িত। তবে ফয়েজ তৈয়্যব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজ দায়িত্বেই কাজ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন— এনইআইআর (National Equipment Identification Registrar) চালুর আগে আলোচনা প্রয়োজন। হাতে থাকা অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট বিক্রির জন্য এক বছর সময় দিতে হবে। এনইআইআর বর্তমান কর নীতিতে বাস্তবায়ন হলে ফোনের দাম বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মোবাইল উৎপাদনকারী একটি ‘সিন্ডিকেট’ তাড়াহুড়ো করে এনইআইআর বাস্তবায়ন করাতে চাইছে বলে অভিযোগ। সরকার সিদ্ধান্ত না বদলালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।

ডিবির কর্মকর্তারা মিজানুরকে এনইআইআর বিরোধী সংবাদ সম্মেলন নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। মিজানুরের দাবি—ডিবির আচার–আচরণে মনে হয়েছে “উপরের মহলের নির্দেশে” সম্মেলনটি না হওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে পিয়াস ডিবি কার্যালয়ে আছেন এবং তার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিনের মাধ্যমে আসা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফয়েজ আহমদকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো গণমাধ্যম আমার ওপর দায় চাপিয়েছে। তাদের উদ্দেশেই আমার বক্তব্য—এটা অনভিপ্রেত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাজ করে। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার অবকাশই নেই।’

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থেই আমরা এনইআইআর বাস্তবায়ন করছি। অবৈধ হ্যান্ডসেটের লাগাম টানতে সংক্ষুব্ধ পক্ষের সঙ্গে বিটিআরসি বৈঠকও করেছে।’

ফয়েজ আহমদের বক্তব্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে শামীম মোল্লা বলেন, ‘আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি যদি এসব কাজে লিপ্ত হয়ে থাকেন, দয়া করে এসব কাজ থেকে আত্মসম্মানবোধ রেখে সরে আসুন। কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের অজুহাতে ওদের মুনাফা বেশি করিয়ে দেওয়ার জন্য আপনারা এসব পাঁয়তারা করবেন না।’

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন মার্কেটের মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এএম