আধুনিকতার সর্বোচ্চ চূড়ায় এখন মানুষ বসবাস করছে, আর প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। প্রতিনিয়ত মানব সমাজে যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি, যা মানুষের জীবনকে দিন দিন যন্ত্রনির্ভর করে তুলছে। আর যন্ত্রনির্ভর মানেই নতুনত্বের ছোঁয়া।
নীলফামারী জেলার চার পৌরসভা ও দুই উপজেলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, গোটা জেলায় প্রায় ৩০ হাজারের বেশি ত্রি-চক্রযান (রিকশা) চলাচল করত। এর মধ্যে জেলার বৃহৎ ও বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুর শহরে প্যাডেলচালিত রিকশার সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কাছাকাছি। অবশিষ্ট রিকশা চলাচল করত সদর পৌরসভাসহ অন্য উপজেলাগুলোতে। চলমান সময়ে রিকশার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত অটোরিকশা। এসব যানে ব্যবহার করা হয় ব্যাটারি। প্রতিদিন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারিগুলোতে চার্জ দেওয়া হয়। এরপর তা অটোরিকশায় যুক্ত করে রাস্তায় চলাচল উপযোগী করা হয়। এজন্য বাড়তি বিদ্যুতের ব্যয়ও হচ্ছে।
কথা হয় রিকশা-মেকার মোক্তার হোসেন, আইনুল হক ও মো. আলমের সঙ্গে। তারা জানান, এক সময় তারা রিকশা মেরামতের পেশার সঙ্গে স্থানীয় যন্ত্রাংশ দিয়ে নতুন নতুন রিকশাও তৈরি করত। এসব রিকশা দেওয়া হতো ভাড়ায় চালানোর জন্য। যেসব চালকের রিকশা কেনার সামর্থ্য থাকত না সেসব মানুষ ভাড়া রিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহন করত। এতে রিকশার মালিককে আয়ের সামান্য দিয়ে অবশিষ্ট টাকা চালক নিত। তা দিয়ে ঐ চালকের পরিবার চলত। এমন রিকশা ভাড়া খাটানোর মানুষের সংখ্যা ছিল পুরো জেলা মিলে ৫০০ জনের মতো। এদের গ্যারেজে আবার পাঁচ-সাত জন মানুষ প্রতিদিন দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু ইজি অটোবাইকের কারণে এসব মানুষও হয়েছে কর্মহীন। এমন বেকার মানুষের সংখ্যা জেলা জুড়ে ৩ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
কথা হয় নীলফামারী পৌরসভার যান বিষয়ক কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুয়েল আহমেদ ও সৈয়দপুর পৌরসভার মোকছেদ আলীর সঙ্গে। তারা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্যাডেলচালিত রিকশা এখন নাই বললেই চলে। বর্তমানে চলছে ব্যাটারিচালিত দ্রুতগতির ইজি অটোবাইক।
মুঠোফোনে কথা হয় নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রযুক্তির আধুনিকতায় নতুন সৃষ্টি জায়গা করে নিবে এটাই স্বাভাবিক।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘এখন মানুষ অনেকটা আরামপ্রিয়। পায়ে চালিত রিকশা এখন চালাতে চান না আর যাত্রীও ওঠে না। তাই পা-চালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’
