বাউলদের মহাসম্মেলন মানিকগঞ্জেই হবে— ফরহাদ মজহার বললেন ‘আমি সেখানে থাকব, আমাকে পেটাতে পারেন’

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৩

পালাকার ও বয়াতি শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তার এবং মানিকগঞ্জে বাউলদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বাউল-ফকির ও সাধুসন্তদের মহাসম্মেলন মানিকগঞ্জেই অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আবুল সরকারের মুক্তি ও বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তিনি। সাধুগুরুভক্ত ও ওলি–আওলিয়া আশেকান পরিষদের উদ্যোগে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, “মানিকগঞ্জে যারা নিরীহ বাউলদের পেটাচ্ছে—আমি সেখানে থাকব, আমাকে পেটাতে পারেন। আমরা প্রতিহিংসা করি না, কিন্তু আপনাদের শিক্ষা দিয়েই যাব।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামের নামে যে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, এর সঙ্গে প্রকৃত ইসলামের কোনো যোগ নেই। নিরীহ মানুষের ওপর জুলুমকারীরা কখনোই রসুলের উম্মত দাবি করতে পারে না।”

গ্রেপ্তার ও হামলার পটভূমি

ঘিওর উপজেলার এক ইমামের করা ধর্ম অবমাননার মামলায় গত বৃহস্পতিবার বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। রোববার তার অনুসারীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গেলে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা’ ব্যানারের একটি দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়।

রাজনৈতিক দলগুলোকে হুঁশিয়ারি

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, “এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত—যেই হোন না কেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। জালিমের পাশে দাঁড়ালে ভোট আশা করবেন না।” তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মীয় উগ্রবাদীরা দেশের ঐতিহ্য ও সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

আবুল সরকারের স্ত্রীর অভিযো

সমাবেশে বক্তব্য দেন আবুল সরকারের স্ত্রী আলেয়া বেগমও। তিনি দাবি করেন, তাদের ওপর হামলা চালানো ব্যক্তিরাই আবার ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে বাউলদের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “যারা মাথা ফাটাল, তারাই থানায় গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিল। কিন্তু আমি অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করেছে।”

অন্য বক্তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে মাজার ভাঙার ঘটনার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আবুল সরকারের গ্রেপ্তার এবং বাউলদের ওপর হামলা সেই ব্যর্থতারই প্রমাণ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণমাধ্যমকর্মী আরিফ রহমান, বাউলভক্ত শাহীন সরকার, সুফি বেলাল নুরী, তৌহিদুল ইসলাম, রাজনৈতিক কর্মী আবদুল মজিদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা মঞ্জুরুল হক ও আকরাম খান, লেখক অস্টিক আরজু, মানবাধিকারকর্মী মুনতাসির রহমান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইব্রাহিম মিয়া।

ইত্তেফাক/এএম