নুরাল পাগলার দরবারে হামলা

দুই মাস পর করা মামলা ১১ দিনের মাথায় প্রত্যাহারের আবেদন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ২১:৩৯

রাজবাড়ীর নূরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বাদী ও নুরাল পাগলার শ্যালিকা শিরীনা বেগম।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে তিনি গোয়ালন্দ আমলি আদালতে এ–সংক্রান্ত আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য ২২ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিরীনা ও মামলার নামীয় আসামিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন।

মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদী পক্ষের অ্যাডভোকেট মো. শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে ইত্তেফাক ডিজিটালকে জানান, মামলার বাদী শিরীনার সঙ্গে আসামি পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে পৌঁছেছে। উভয়পক্ষের মধ্যে আপোষ ও মীমাংসার ভিত্তিতে বাদী স্বেচ্ছায় মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। বাদী আদালতে আবেদন দাখিল করেছেন এবং আদালত এটি গ্রহণ করেছেন। এটি একটি সিআর মামলা। পরবর্তী নির্ধারিত শুনানির তারিখে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার প্রত্যাহারের আদেশ দেবেন।

এর আগে নুরাল পাগলার দরবারে হামলার প্রায় দুই মাস পর গত ১৩ নভেম্বর শিরীনা ৯৬ জনকে নামীয় এবং আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আদালতে মামলার আবেদন করেন নূরাল পাগলার শ্যালিকা শিরীনা বেগম। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ হোসেন মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। 

প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ বাজার শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে উপজেলা ‘ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি ও তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের পর একদল লোক নুরাল পাগলার দরবারে হামলা চালায়। তারা শরিয়ত বিরোধী দাফনের অভিযোগ তুলে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে গোয়ালন্দ উপজেলাধীন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড়ে পুড়িয়ে দেয়। এসময় সংঘর্ষে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন, পরে গুরুতর আহত রাসেল মোল্লা মারা যান। 

ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেন। হত্যাসহ ভাঙচুর, লুটপাট ও মরদেহ উত্তোলনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এছাড়া, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানার উপ-পরিদর্শক সেলিম মোল্লা ৬ সেপ্টেম্বর রাতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ইত্তেফাক/এপি