চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ছাত্রদল নেতা

কোস্টগার্ড কর্মকর্তাকে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:০৩

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির সময় এক ছাত্রদলনেতাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটকের ঘটনায় এবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি, ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এতে চাঁদাবাজির ঘটনাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবির পাশাপাশি তারা বলেছেন, অভিযান চালানো কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ছিলেন ছাত্রলীগের কর্মী।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা। উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইরাজ মাহমুদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. শিরাজ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুর্তুজা আল আমিন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. শিব্বিরসহ বিএনপি ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আলেকজান্ডার আসলপাড়া লঞ্চঘাট থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে উপজেলা সদর আলেকজান্ডার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম নয়নসহ তার দুই সহযোগীকে আটক করে কোস্টগার্ড। এসময় তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয় বলেও দাবি করছে সংস্থাটি। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে কোস্টগার্ড।

ঘটনার একদিন পর বুধবার উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা নয়ন সম্প্রতি সময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে কথা বলেন। এর রেশ ধরেই তাকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা সংস্থার ফিল্ড স্টাফ (এফএস) মো. সোহান ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। সোহান স্থানীয় কিছু ষড়যন্ত্রকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অর্থের বিনিময়ে তার টিমসহ এক অভিযান চালিয়ে ছাত্রদল নেতাসহ তাদের আটক করে। তাদের আটকের পর কোস্টগার্ড রামগতি স্টেশন ক্যাম্পে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে এবং পায়ের নখ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোস্টগার্ডের রামগতি স্টেশন কমান্ডার আব্দুস শহীদ বলেন, নয়ন ও তার সঙ্গীদের চাঁদা তোলার বিষয়টি কয়েক দিন ধরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার দিন কোস্টগার্ডের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক করে এবং টাকা আদায়ের একটি রশিদ উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগগুলো  সত্য নয়।

ইত্তেফাক/এপি