মেক্সিকোতে বাংলাদেশ সংক্রান্ত সংসদীয় গ্রুপ গঠিত

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫১

মেক্সিকো পার্লামেন্টে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে মেক্সিকো–বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাষ্ট্রদূতকে মেক্সিকো পার্লামেন্টের অধিবেশন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি আইনপ্রণেতাদের ভোটাভুটির কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জর্ডানের রাষ্ট্রদূত আদলি কাসেম আলখালেদি এবং আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের ডিন রবার্ট লি।

অধিবেশনে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট কেনিয়া লোপেস রাবাদান রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর উপস্থিতি স্বাগত জানিয়ে সমস্ত আইনপ্রণেতার সামনে মেক্সিকো–বাংলাদেশ মৈত্রী দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের সদস্যরা এ সময় রাষ্ট্রদূতকে পার্লামেন্টের ফ্লোরে অভ্যর্থনা জানান।

পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সংযুক্ত সভাকক্ষে মৈত্রী গ্রুপের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে গ্রুপের সভাপতি ডেপুটি ফ্রান্সিসকো হাভিয়ের এসত্রাদা দোমিন্সেস দুই দেশের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পার্লামেন্টারি ডিপ্লোম্যাসির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার নৈতিক শক্তি, আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আজীবন অঙ্গীকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারে নতুন আস্থা সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রদূত আগস্ট ২০২৪-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গত আগস্টে ছাত্রসমাজ, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, শিশু, সাংবাদিকসহ হাজারো নাগরিক অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি রচনা করা জাতীয় নেতাদের অবদান আজও পথ দেখায়। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। আর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মেক্সিকোর শক্তিশালী ও উন্মুক্ত সংসদীয় চর্চা গণতন্ত্রপন্থী দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের নবগঠিত সংসদও সেই স্বচ্ছতার পথে এগোচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডেপুটি ইমা ইয়োরদানা গারাই লোরেদো, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ডেপুটি পেদ্রো ভাসকেস গনসালেস এবং ডেপুটি হেসুস ভালদেস পেনা। তারা দুই দেশের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, পরিবেশ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

ভিডিও বার্তায় সিনেটর ইমানুয়েল রেয়েস কারমোনা মৈত্রী দলের গঠনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন জর্ডান ও আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রদূত। তারা মেক্সিকো–বাংলাদেশ সংসদীয় গ্রুপের সফলতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে মৈত্রী দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রার নথিতে সই করেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি সংসদের দর্শনার্থী বইতেও স্বাক্ষর করেন। স্মারক উপহার বিনিময় ও দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ইত্তেফাক/এনএন