শিক্ষকরা আন্দোলনে, মসজিদের মাইকে অভিভাবক ডেকে নেওয়া হলো পরীক্ষা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:১৭

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে বড়জোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতি–সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে গত ২৭ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। গত মঙ্গলবার প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক গণিত ও সমন্বিত বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে পরীক্ষা বর্জন করেন।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাত ৮টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান, শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলার সব প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে জুম মিটিং করেন। মিটিং-এ বুধবার প্রাথমিক বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নির্দেশনার পরও উপজেলার কিছু কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বড়জোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

সরেজমিন বড় জোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষককে পরীক্ষা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অফিসসহ বিভিন্ন শ্রেণি কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া চেষ্টা চালায়। এসময় এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে তারা পরীক্ষায় সহযোগিতা করা হবে বলে প্রধান শিক্ষককে আশ্বস্ত করেন। সর্বশেষ স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে মাইকিং করে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার হলে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিল্পী আচার্য্য বলেন, মাইকিংয়ের পর অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেন। পরে স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, স্থানীয় ও অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমদ জানান, কঠোর নজরদারীর মধ্য দিয়ে ১৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি; সেসব বিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যথারীতি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি