নীলফামারীর ডোমারে ডিলারের গোডাউন থেকে সরকারি সার লুটের ঘটনা ঘটেছে। পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার স্বত্বেও সার বিতরণ করা হচ্ছে না- এমন গুজব ছড়িয়ে দুর্বৃত্তরা সার লুটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে কৃষি কর্মকর্তারা। এতে বিতরণের জন্যে মজুদ রাখা ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি ও ডেব সারের প্রায় এক হাজার বস্তা সার লুট হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের কৃষকদের জন্যে বরাদ্দ থাকা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) অনুমোদিত সার ডিলার আর. বি ট্রেডার্সের গোডাউনের তালা ভেঙে এ লুটের ঘটনা ঘটে।
কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার রাতে ওই ডিলার পয়েন্টে সারের বস্তা এসে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার সকালে এসব সার বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু বরাদ্দ কম থাকার কারণে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ ছিল। এরই মাঝে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার পরও সারের সংকট দেখানো হচ্ছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে সার বিতরণের দিনে এই উড়ো খবর ছড়িয়ে পড়লে, কৃষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ডিলারের তালা ভেঙে সার লুটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
একই দিনে আর. বি ট্রেডার্সের গোডাউনের তালা ভেঙে সার লুটের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ওই উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার এস. বি এন্টারপ্রাইজের হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিটলার রহমান জানান, সার বিতরণ দেরিতে হওয়ায় এবং চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় উপস্থিত কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা আমার ওপর চড়াও হন। হট্টগোলের সুযোগে কিছু অসাধু লোক সারের গোডাউনের তালা ভেঙে বেশির ভাগ সার লুট করে নিয়ে যায়। কৃষকদের জন্যে টিএসপি ৪০ বস্তা, এমওপি ১৪০ বস্তা, ডেব ৩৭৪ বস্তা ও ইউরিয়া ৬০০ বস্তা মজুদ ছিল। মজুদ থাকা সারের মধ্যে অধিকাংশ সারের বস্তা লুট করে নিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় ডিলার পয়েন্টে সার ঢুকেছে; যা বৃহস্পতিবার সকালে বিতরণের কথা ছিল। সার নিতে আসা মানুষের ভিড় জমলে কিছু অসাধু লোক হট্টগোল শুরু করে গোডাউন থেকে সার নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ডোমার থানার এসআই আঙ্গুর বলেন, সার বিতরণের হট্টগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সার লুট হওয়ার বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
