পাকিস্তানের সামরিক-সমর্থিত সরকারের অধীনে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের ৪০ জনেরও বেশি সদস্য।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে ‘সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়ন’ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বাড়তি আশঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির ৪০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা।
তাঁদের অভিযোগ— পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক-সমর্থিত সরকার দেশে নাগরিক স্বাধীনতা ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বিভিন্ন অধিকার চর্চায় নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
৩ ডিসেম্বরের (২০২৫) চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, পাকিস্তান সরকারের সমালোচনার কারণে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মার্কিন নাগরিক এবং তাদের পরিবারও হুমকি, ভয় দেখানো ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানে সামরিক-সমর্থিত শাহবাজ শরিফ সরকার ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অধীনে চলমান সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির সংকট নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি
তারা উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক ও অভিবাসীরা হুমকি, ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির মুখে পড়েছেন—যার প্রভাব প্রায়শই পাকিস্তানে থাকা তাদের পরিবার-পরিজনের ওপরও পড়েছে। এই কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে ইচ্ছেমতো আটক, জোরপূর্বক চাপ সৃষ্টি এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতা যা বিশেষভাবে প্রবাসী পাকিস্তানিরা এবং তাদের স্বজনদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর)–এর ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এসব কার্যক্রম “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা”–র মতো মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করছে।
আইনপ্রণেতারা তাদের উদ্বেগ জানিয়ে আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই তারা পাকিস্তানের এমন কর্মকর্তাদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন, যারা সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দমননীতি চালানোর সঙ্গে জড়িত।
এর মধ্যে থাকতে পারে ভিসা নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দসহ অন্যান্য কার্যক্রম।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পাকিস্তান এখন ক্রমবর্ধমান স্বৈরতান্ত্রিক সংকটের মুখে, যেখানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মৌলিক স্বাধীনতাগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচন, যা নানা অনিয়মের কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল এবং পাকিস্তানের একটি স্বাধীন নাগরিক সমাজের পাত্তান রিপোর্ট বিশদভাবে নথিভুক্ত ছিল—একটি ‘নমনীয়’ বেসামরিক সরকার সামনে নিয়ে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এই অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

