বরগুনায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত স্বাধীনতা জাদুঘর, অবহেলায় হারাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৩:৩১

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের হামলা-ভাঙচুরের পর বরগুনার একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর বরগুনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়। এর আগে এটি মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি হিসেবে ব্যবহৃত হত।

বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী চিত্তরঞ্জন শীল জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ১৯৯৫ সালের দিকে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস ভিত্তিক আলোকচিত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। পরে এই আলোকচিত্রগুলো জেলা প্রশাসনের আয়োজিত জাতীয় প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনের নিচতলার একটি কক্ষে এটি মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারী হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো: মোখলেছুর রহমান ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে গ্যালারী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাইন বিল্লাহ্ এটিকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রূপান্তরিত করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিক্ষার্থী ও দর্শণার্থীরা জাদুঘরটি পরিদর্শন করতেন।

জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ এবং ইতিহাসভিত্তিক ৩ শতাধিক আলোকচিত্র, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ও স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত বই ও স্মরণিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কাঠের বন্দুক (ভাঙ্গা), পোশাক, রান্নার পাতিল, রামদা, ভোজালি সহ নানা তৈজসপত্র সংরক্ষিত ছিল। এছাড়া জাদুঘরটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে পরিণত করার জন্য বরগুনায় স্থাপিত মোগল আমলের ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ এবং পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মজিদ বাড়িয়া মসজিদে ব্যবহৃত ইট-পাথরের অংশ ও মানুষের ব্যবহৃত পুরানো দিনের নানা উপকরণও সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ৫ আগস্ট, অন্যান্য স্থাপনার মতো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরেও হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। ফলে জাদুঘরটি বর্তমানে খালি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এটি পুনঃনির্মাণ করা হবে কিনা সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

জাদুঘরটির অন্যতম উদ্যোক্তা চিত্তরঞ্জন শীল বলেন, মূলত কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়নি। আমাদের লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণ নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখা। আশা করি বর্তমান সরকার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।

বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইউসুপ মৃধা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি নতুন প্রজন্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে তারা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে জাদুঘরটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অনুরোধ জানাব।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো মন্তব্য করেননি।

ইত্তেফাক/এএইচপি