গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর শর্তে অস্ত্র সমর্পণ করতে প্রস্তুত হামাস। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) হামাসের প্রধান আলোচক এবং গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়াকে উদ্ধৃত করে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, 'আমাদের অস্ত্র দখলদারিত্ব এবং আগ্রাসনের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। যদি দখলদারিত্ব শেষ হয়, তাহলে এই অস্ত্রগুলো রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের অধীনে রাখা হবে।'
এএফপির প্রশ্নের জবাবে খলিল আল-হাইয়া একটি সার্বভৌম এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করছেন।
তিনি বলেন, 'আমরা জাতিসংঘের বাহিনীকে একটি বিচ্ছিন্ন বাহিনী হিসেবে মোতায়েনকে স্বাগত জানাই- যাদের দায়িত্ব হবে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি মেনে চলা নিশ্চিত করা।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর থেকে গাজায় মার্কিন মধ্যস্ততায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি গণহত্যার যুদ্ধ অঞ্চলজুড়ে নিহতের সবশেষ সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বেশি মানুষ আহত হয়েছে। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
চলতি বছরের শুরুতেও একটি যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ইসরায়েল গত ২৭ মে থেকে গাজায় পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করে। এই পদক্ষেপের পর অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষ প্রকট হয়ে উঠেছিল। ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপরও গুলি চালিয়ে যায়। এর ফলে শত শত মানুষ নিহত হয়। সেই সঙ্গে দুর্ভিক্ষে শিশুসহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উপত্যকাজুড়ে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।
