গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চুরি ঘটছে। চোর চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কৃষকের জমির সেচ দেওয়ার সাবমারসিবল মেশিন, মসজিদের মাইকের অ্যামপ্লিফায়ার, বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের তার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, এমনকি গৃহস্থালির হাঁস-মুরগি, গরু ও ছাগলও। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও এলাকায় মাদকের বিস্তার চুরি বাড়ার প্রধান কারণ। বিশেষ করে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন। বোরো মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে জমিতে পানি দেওয়ার পাম্প চুরি হয়ে গেলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ভুক্তভোগী কৃষক মেজবাহ উদ্দীন আকন্দ বলেন, আমি সরকারি স্কিমের আওতায় জমিতে সেচ দেই। কিন্তু কয়েক দিন আগে আমার সেচ পাম্পটি চুরি হয়ে গেছে। নতুন করে পাম্প বসানো অনেক ব্যয়সাপেক্ষ, যা বহন করা আমার পক্ষে কঠিন। বাধ্য হয়ে এ বছর সেচ দেওয়া বন্ধ রাখার কথাই ভাবছি।
অন্যান্য কৃষকরাও জানিয়েছেন, সেচ যন্ত্র চুরির কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এই আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুলিশি টহল ও নজরদারির অভাবে চোর চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং রাত্রিকালীন পুলিশি টহল জোরদার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপনের দাবি করছেন।
কালীগঞ্জ থানার বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, পুলিশ প্রধান সড়কগুলোতে নিয়মিত টহল দেয়। তবে উপজেলার অনেক বাড়ি বা এলাকা রয়েছে, যেখানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল। সেখানে চুরি হলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। চুরি রোধে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। এলাকার মানুষদের যৌথ পাহারা ও সতর্কতার মাধ্যমে চুরি প্রতিরোধ সম্ভব।
