পাহারাদারকে অচেতন করে ট্রান্সফরমার নিয়ে গেলো দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:০৪

বগুড়ার নন্দীগ্রামে পাহারার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার পর এক ব্যক্তিকে অচেতন করে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কদমকুড়ি গ্রামের সাড়পুকুর এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।

নলকূপের মালিক কদমকুড়ি গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে আবুল কালাম জানান, গ্রামে বিভিন্নস্থানে ট্রান্সফরমার চুরির কারণে আমরা সতর্ক ছিলাম। প্রতিদিনের মতো আমার বড় ভাই আব্দুল হাফিজ রাতে নলকূপের ঘরে গিয়ে ট্রান্সফরমার দেখে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে। এই সুযোগে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে অচেতন করে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার খুলে নিচে নামিয়ে তামার তার বের করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে জমিতে ট্রান্সফরমার খালি বোতল দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি সেচপাম্পের ঘরের দরজায় তালা দেওয়া এবং ভেতরে আমার ভাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসি। পরে তাকে  চিকিৎসা জন্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। বর্তামানে সে সুস্থ আছে। তাছাড়া চোরের দল সেচপাম্পের ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক পাউডার ছিটিয়ে আব্দুল হাফিজকে অচেতন করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অচেতন অবস্থায় আব্দুল হাফিজকে উদ্ধার করি। মালিক পক্ষকে থানায় গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নন্দীগ্রাম জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কায়সার রেজা বলেন, ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন। 

ইত্তেফাক/এপি