প্রতিষ্ঠার চার বছর উদযাপন করেছে বজলুর রহমান পাঠাগার। বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৈন্দ গ্রামের এফ. আর. আদর্শ বিদ্যাকানন প্রাঙ্গণে গান, আবৃত্তি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে চতুর্থ বর্ষপূর্তি পালন করা হয়।
মহান বিজয়ের মাস ও পাঠাগারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ‘রঙ-তুলিতে বাংলাদেশ’ শিরোনামের দলীয় চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। পাঠাগারের শিক্ষার্থীদের আঁকা ৫০টি চিত্রকর্ম স্থান পায় প্রদর্শনীতে।
প্রদর্শনীর কিউরেটর চিত্রশিল্পী শাহনাজ জাহান বলেন, গত নভেম্বর মাসে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করি। সেখানে তারা ছবি আঁকে। সেখান থেকে বাছাই করা ৫০টি ছবি নিয়ে এই প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে। বিজয়ের মাস ও পাঠাগারের বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে আমাদের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘রঙ-তুলিতে বাংলাদেশ’। শিক্ষার্থীরা তাদের কাজে ফুটিয়ে তুলেছে দেশের প্রকৃতি, জনজীবন ও সম্প্রীতির বার্তা।
বিকেল ৪টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজচিন্তক বজলুর রহমান। তিনি বলেন, একসময় আমাদের গ্রাম ছিল শান্ত-স্নিগ্ধ। এখন অপরিকল্পিত উন্নয়নের চাপেই সেই সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। মানুষের মানবিক গুণের বিকাশ ছাড়া ইট-পাথরের উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। গ্রামের মানুষকে নিয়ে ভাবতে হবে, আর শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সভাপতির বক্তব্যে নারীনেত্রী ফজিলাতুন্নাহার বলেন, গ্রামের শিশু-কিশোররা যেন শুদ্ধ চিন্তায় বড় হয়ে ওঠে, সে লক্ষ্যেই বজলুর রহমান পাঠাগার কাজ করে যাচ্ছে। এখানে শিশুরা বই পড়ার পাশাপাশি আবৃত্তি, ছবি আঁকা, সঙ্গীতচর্চাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কিন্ডারগার্টেন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শামীম সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মজলিশপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি আয়েত আলী মেম্বার ও সাংবাদিক জাকির হোসেন জিকু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পাঠাগারের সমন্বয়ক তানহা।
অনুষ্ঠানে পাঠাগারের শিক্ষার্থীরা দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জয়া রানী শীল। এফ. আর. আদর্শ বিদ্যাকাননের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৈন্দ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় বজলুর রহমান পাঠাগার।

