থামছেই না সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত করপোরাল মাসুদ রানার মা মর্জিনা বেগম (৬০) ও স্ত্রী আসমা উল হুসনা আঁখির কান্না। মা ও দাদির সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে ৮ বছরের মেয়ে আমেনা খাতুন। এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে মাসুদ রানার গ্রামের বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়ায়। মাসুদ রানা ওই গ্রামের সাহার ফরাজির ছেলে।
নিহত করপোরাল মাসুদ রানার ভাতিজা ছবেদ আলী জানান, স্বামীর অসুস্থতার খবরে রোববার সকালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে মেয়ে আমেনাকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন মাসুদ রানার স্ত্রী আঁখি। বাড়িতে এসে স্বামীর মৃত্যুর খবর পান তিনি। এদিকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় ছেলের মৃত্যুর খবর পান মাসুদ রানার মা। তখন থেকেই বাড়ি জুড়ে শুরু হয় শোকের মাতম।
মাত্র এক মাস ৭ দিন আগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়া মাসুদ রানার মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
জানা গেছে, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে গত শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ড্রোন হামলা চালায়। এতে দায়িত্বে থাকা ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আটজন আহত হন। করপোরাল মাসুদ রানা তাদের এক জন। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় মাসুদ রানা। ২০০৫ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তার অন্য দুই ভাই মনিরুল ইসলাম ও রনি আহমেদও সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন।
