পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার বিষয়টি ‘অবান্তর’: চবি সহ–উপাচার্য

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:১৬

পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার বিষয়টি ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যে সময় পাকিস্তানি বাহিনী দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল, সে সময় তারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে—এটা রীতিমতো অবান্তর বলে আমি মনে করি।’

অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে করতরাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেলে একাত্তরের প্রকৃত ইতিহাস আরও স্পষ্ট হতো।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সহ-উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘রেটরিক বা আলংকারিক বক্তব্য নয়, আমরা বাস্তব সত্য জানতে চাই। ১৯৭১ সালে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, কারা শহীদ হয়েছেন এবং কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল—এসব তথ্য আজও স্পষ্ট নয়।’

তিনি ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানান। তার ভাষায়, ‘আজ পর্যন্ত শহীদের তালিকা হয়নি, রাজাকারের তালিকাও হয়নি। শুধু বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করা হয়েছে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার।

সহ-উপাচার্যের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, অনলাইন মিটিংয়ের কারণে তিনি পুরো বক্তব্য শুনতে পারেননি, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।

তবে সভায় উপস্থিত বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আল আমিন সহ-উপাচার্যের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল।’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান। তবে তিনি সহ-উপাচার্যের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইত্তেফাক/এএম