হলুদের চাদরে ঢাকা মাঠের পর মাঠ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৫

সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠের পর মাঠ এখন সরিষার ফুলের হলুদ চাদরে ঢাকা পড়েছে। যতদূর চোখ যায়, চারিদিকে যেন হলুদের আগুন জ্বলে উঠেছে। হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হলুদ চাদরে দোল খাচ্ছে বারবার। এখানকার গ্রামাঞ্চলের মাঠের চোখ জুড়ানো এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন।

দেশে সরিষা উৎপাদনের শীর্ষস্থান দখল করেছে সিরাজগঞ্জ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় ৯০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। জেলায় উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও তাড়াশে সবচেয়ে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৮৭,১১৫ হেক্টর।

জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে উল্লাপাড়ায়—২৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর, আর তাড়াশে আবাদ হয়েছে ১০,৪৭০ হেক্টর। জেলায় আবাদকৃত সরিষার মধ্যে বারি ১৪, ১৭, ১৮, বিনা ৪, ৯ এবং টরি ৭ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে।

সয়াবিন তেলের ঘাটতি পূরণের জন্য দেশে তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভোজ্যতেলের চাহিদার একটি বড় অংশ দেশেই পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, এ বছর আমাদের উপজেলায় ৩০,৪৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। কৃষকদের সরিষা চাষের জন্য বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের নানা পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, এ বছর আমাদের উপজেলায় ২৪,৬০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আমরা আশা করি।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম. মঞ্জুরে মওলা বলেন, ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য আমরা সরিষার চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি। এবছর জেলায় ৯০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষকদের উদ্দীপনা বৃদ্ধির জন্য সার ও বীজ প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি