শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে মন্তব্য

সহ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:১৯

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে মন্তব্যের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন ছয়টি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভবনটির সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

প্রশাসনিক ভবনে ভবনে নিজেদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান, সহ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, নারী অঙ্গন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মী।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার বিষয়টি ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। 

অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে করদরাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেলে একাত্তরের প্রকৃত ইতিহাস আরও স্পষ্ট হতো।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সহ-উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘রেটরিক বা আলংকারিক বক্তব্য নয়, আমরা বাস্তব সত্য জানতে চাই। ১৯৭১ সালে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, কারা শহীদ হয়েছেন এবং কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল—এসব তথ্য আজও স্পষ্ট নয়।’

এমন বক্তব্যের পর সহ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের দাবিতে গতকাল রাত সাড়ে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাখা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও বামপন্থী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। কর্মসূচিতে সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়।

 
ইত্তেফাক/এমএএস