ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রাঙ্গামাটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, বাধা জনসংহতি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:১৯

আয়তনের দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় জেলার নাম রাঙ্গামাটি। যার আয়তন ৬ হাজার ১১৬ দশমিক ১৩ বর্গকিলোমিটার। ভোটের হাওয়া বইছে এখন এই পাহাড়ি জনপদে। ১০টি উপজেলা, ৫০টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলায় জাতীয় সংসদের আসন মাত্র একটি (২৯৯)। জেলার জনসংখ্যা ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন। মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৯৫২ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৯ জন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫৪ জন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭ হাজার ৫৯৮ জন ভোটার বেড়েছে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২১৩ এবং বুথের সংখ্যা ৯৯৩। গত নির্বাচনে ১৩৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং দূরত্বের কারণে ১৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে হেলিকপটার ব্যবহার করা হয়েছিল।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই রাঙ্গামাটি আসনটি সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এ আসনে পাঁচ বার আওয়ামী লীগ, একবার বিএনপি এবং একবার আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার ভোটযুদ্ধে মূল লড়াইটা হবে বিএনপি ও জনসংহতির প্রার্থীর মধ্যে। তবে প্রেক্ষাপট ও শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করায় জামায়াতও কোনো ছাড় দিতে চাইবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপি দলটির বিশাল কর্মী ও সমর্থক বাহিনী রয়েছে। জামায়াতও এইবারের নির্বাচনে রাঙ্গামাটি আসনে বড় শক্তির দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটি দ্রুত সময়ের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করেছে। পাহাড়ি জনগণভিত্তিক সংগঠন পিসিজেএসএসও বড় শক্তির দল।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারায় রাঙ্গামাটি আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। যেখানে যাচ্ছি মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা এটা বলতে চাই জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করবে’

এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জেলার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোখতার আহম্মদ। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দিলেও তেমন কোনো সুবিধা করতে পারেনি। অ্যাডভোকেট মোখতার আহম্মদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাদের সুযোগ দিলে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি ও সমতল সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’

তবে ভোটের সকল হিসেব যারা বদলে দেন সেই আঞ্চলিক সংগঠনটির নাম সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। সংগঠনটির প্রার্থী ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে সেই সময় সংগঠনটি আরেকটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) পাশে পেয়েছিল।

যদিও পিসিজেএসএসর কোনো প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। তবে সংগঠনটির উদ্যোগে চলতি বছরের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন জেলা কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাল সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ এ আসনে বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাত দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চের হয়ে একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমা কোদাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানান তিনি। এছাড়া এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সদস্য প্রিয় চাকমা শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এসএএস