পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: গোলাম পরওয়ার

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের জনগণ যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নে এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হলে সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা, সহনশীলতা ও ধৈর্যশীল ভূমিকা প্রয়োজন। গণমাধ্যমের প্রতিও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে খর্ণিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বামুন্দিয়ায় অনুষ্ঠিত সহযোগী সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। সেখানে তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজনের পক্ষে মত দেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দুই হাজার ছাত্র-জনতার জীবন ও হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্ববরণের বিনিময়ে পাওয়া এই নতুন বাংলাদেশকে তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ছাত্র-জনতা কর্তৃত্ববাদী শাসনকে লাল কার্ড দেখিয়েছে, আর আমরা এখন দেশ গঠনের অন্তরায় দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাব ইনশা আল্লাহ।”

এর আগে বেলা তিনটার দিকে ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়নের মান্দারতলায় অনুষ্ঠিত মতুয়া সম্মেলনেও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেখানে তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার দায় ইসলামপন্থীদের ওপর চাপানো হলেও ৫ আগস্টের পর প্রমাণ হয়েছে ইসলামপন্থীরা কখনো কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা করেনি; বরং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পাহারায় দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ইত্তেফাক/এএম