সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে অন্যরকম পিঠা উৎসব

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৪৪

শীতের হালকা কুয়াশা ভোরবেলা গাইবান্ধার রাস্তা-ঘাটে ভেসে আসে পিঠার মিষ্টি গন্ধ। চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ২০২৫ শুরু হয়েছিল ১৮ ডিসেম্বর থেকে। কিন্তু উৎসবের আসল রঙ বেরিয়ে আসে সেই মুহূর্তে, যখন সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মুখে দেখা যায় সজীব আনন্দ। 

উৎসবের আয়োজন ছিল মানবিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিদিন বিওয়াইও ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা বাড়ি বাড়ি না হলেও হাট ও সড়কে হাজির ছিলেন পিঠা বিতরণ করতে। শেষ দিনে প্রায় ১ হাজার ১০০টি পিঠা তৈরি হয়ে পৌঁছেছিল মানুষদের কাছে। চার দিনের এই আয়োজনের মোট পিঠার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০টির বেশি।

উৎসবের আয়োজন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে। প্রায় ৫০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। গানাসাস (নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা) সহযোগিতায় এই আয়োজনকে আরও সংগঠিত করা সম্ভব হয়েছে।

উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল পিঠা বিতরণ নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধকে জীবন্ত রাখা। প্রতিটি পিঠা ছিল সেই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ছোট্ট প্রতিনিধিত্ব, যা মানুষকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করেছে।

স্থানীয়রা জানান, এটি চার দিনব্যাপী এই উৎসব শুধু একটি মেলা নয়, এটি ছিল মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শীতের আনন্দ ভাগাভাগি করার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিওয়াইও ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জিহাদ আকন্দ বলেন, অনেক মানুষ আজও পিঠা খেতে পারেননি। আমাদের চাওয়া ছিল, শীতের এই সময়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানো। প্রথমবার বিভিন্ন ধরনের পিঠা খেয়ে শিশুরা যেন আনন্দের চিৎকার করে। প্রবীণরা মনে করছিলেন, যেন শৈশব ফিরে এসেছে।

তিনি আরও জানান পিঠা উৎসব আমাদের শীতকালীন আনন্দ ও সামাজিক সংহতির প্রতীক। আশা করি ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি