ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: মাগুরায় বড় ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু ভোট

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৪৩

মাগুরা জেলায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। জেলার দুটি আসনেই প্রার্থীরা গণসংযোগ করছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে এনসিপি শুধু মাগুরা-২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে মাগুরা-১ আসনে একাধিক মনোনয়প্রত্যাশী থাকায় প্রার্থী চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে।

রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর একটি অবাধ নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশায় জেলাবাসী উন্মুখ হয়ে রয়েছেন। মাগুরার দুটি আসনে উল্লেখ্যযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার থাকায় বিএনপি, জামায়াত এসব ভোট নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন। রাজনৈতিক দলের কার্যালয়গুলো নেতাকর্মীদের পদচারণায় সরগরম থাকছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের হাট-বাজারে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আলোচনা। দুটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

মাগুরা-১ আসন: মাগুরা সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং সমগ্র শ্রীপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৭ হাজার ২৭৬ জন। এই আসনে বিএনপি থেকে মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মনোয়ার হোসেন খাঁন মনোনয়ন পেয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী থেকে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরার সদস্য মো. আব্দুল মতিন, ইসলামী আন্দোলন থেকে দলের জেলা শাখার সহসভাপতি মওলানা নাজিরুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ডা. খলিলুর রহমান প্রার্থী হচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের থেকে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, গণফোরাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন।

বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করছেন। বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খাঁন নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। মাগুরায় সাংগঠনিকভাবে বিএনপির শক্ত ভিত্তি রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও তাদের প্রার্থী নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির অমুসলিম শাখাও মাঠে রয়েছে। এনসিপির তরুণ নেতৃত্ব ভোটে ভালো ফলাফলের আশা করছেন। এই আসনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলই চাচ্ছে সংখ্যলঘু ভোট তাদের বাক্সে আসুক।

মাগুরা-২ আসন: জেলার মহম্মদপুর উপজেলা, শালিখা উপজেলা ও মাগুরা সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার ৫৫৯ জন। বিএনপি থেকে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন। সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শিল্পপতি কাজী সালিমূল হক কামাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

জামায়াত এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে অনেক আগেই। তিনি হলেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরার সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক এম বি বাকের।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, এনসিপির জেলা সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম খাজা প্রার্থী হচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাবেক একান্ত সহকারী সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন, এবি পার্টি থেকে ইমরান নাজির, বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এলাকায় নিয়মিত প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াত প্রার্থীও নিয়মিত সভা সমাবেশ ও বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি মোস্তফা কামালও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সভা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।  

জানা গেছে, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সালিমূল হক কামাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই মামলায় দীর্ঘ সাত বছর কারাভোগ করেছিলেন। এ আসনেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের দৃষ্টি রয়েছে এই সংখ্যালঘু ভোটের দিকে। দুই দলই সংখ্যলঘু ভোট তাদের দিকে আনার চেষ্টা করছেন।

মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ বলেন, জেলা দুইটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করবে। নিজেদের প্রার্থী নিয়ে একই কথা বলেছেন জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আবু সাইদ বাচ্চু।

ইত্তেফাক/এসএএস