ফুলবাড়ীতে হিমেল বাতাসে কাঁপছে চরাঞ্চলের মানুষেরা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৩:২২

উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শীতের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। টানা চার দিন ধরে জেলা ও উপজেলার তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে অবস্থান করছে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

আনুষ্ঠানিকভাবে শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও রাতভর ঝরা শিশিরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদ-নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় চরবাসীরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ধরলা তীরবর্তী চরগোরকমন্ডল, আনন্দ বাজার, দক্ষিণ চরগোরকমন্ডল, গোরকমন্ডল, বারোমাসিয়া তীরবর্তী অঞ্চল, পশ্চিম ফুলমতি কলাবাগান, ঝাউকুটি, কিশামত শিমুলবাড়ী, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ধরলা তীরবর্তী চর জ্যোতিন্দ্র নারায়ণ, সোনাইকাজী, চরসোনাইকাজী, মরানদী, কবিরমামুদ ও বড়ভিটা ইউনিয়নের চরবড়লই, ধনীরাম ও চরধনিরাম বড়ভিটাসহ নানা দুর্গম চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা জনজীবন কার্যত অচল করে দিয়েছে।

শীতের কারণে দিনমজুর শ্রেণির মানুষও কাজে যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে কুড়িগ্রাম জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই সর্দি-কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতকালে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি ২৯৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শীতজনিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার নয় উপজেলার শীতার্ত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২২ হাজার কম্বল বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। জেলার ৪৬৯টি চরের প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ খাদ্য সংকট ও শীতে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। সীমান্তঘেঁষা দুর্গম চরাঞ্চলে প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। দ্রুত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো না গেলে এটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

ইত্তেফাক/এএইচপি