ঝিনাইদহে উৎসবের আমেজে শুভ বড়দিন উদযাপন, শান্তি ও সম্প্রীতির প্রার্থনা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৪৮

শান্তি, মুক্তি ও মানবতার বার্তা নিয়ে ঝিনাইদহে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই জেলার গির্জাগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

সকাল ১০টায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ব্যাপটিস্ট চার্চসহ জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন গির্জায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটির শুভ সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই যিশু খ্রিস্টের জন্মদিনের কেক কাটা হয় এবং বিশেষ প্রার্থনায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন সাথী বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর অঞ্চলের প্রধান পরিচালক পাস্টর ডেনিস সরকার। তিনি যিশু খ্রিস্টের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরে বলেন, যিশু খ্রিস্ট মানুষকে ভালোবাসা এবং ক্ষমার শিক্ষা দিয়েছেন। আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক ঘৃণা ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হও

বড়দিনের আনন্দ সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে শিশুদের। গির্জাগুলোতে শিশুদের নিয়ে আলাদাভাবে কেক কাটা হয় এবং তাদের মধ্যে উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় বিশেষ ধর্মীয় নৃত্য, যা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিটি গির্জা ও সংলগ্ন এলাকায় ছিল প্রশাসনের কড়া নজরদারি। রঙিন আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি আর আলপনায় সাজানো গির্জাগুলো পরিণত হয়েছিল এক টুকরো উৎসবের জনপদে। শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ই নয়, সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এই আয়োজন পরিণত হয় এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলায়।

ইত্তেফাক/এএইচপি