শিক্ষার্থীদের ট্রাম্পের ভিডিও দেখানোয় ব্রিটিশ শিক্ষককে ‘সন্ত্রাসীর সঙ্গে তুলনা’

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৪১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি ভিডিও শিক্ষার্থীদের দেখানোর জন্য যুক্তরাজ্যের একজন শিক্ষককে 'সন্ত্রাসীর সঙ্গে' তুলনা করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, পঞ্চাশের কোঠার বয়সী কলেজের ওই শিক্ষক 'যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি' ক্লাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিওগুলো দেখিয়েছিলেন।

টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ছাত্রদের উগ্রপন্থী করে তোলা এবং তাদের 'মানসিক ক্ষতি' করার অভিযোগও ওঠে।

ওই শিক্ষক দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, 'এ-লেভেলের (১৭-১৮ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীদের কাছে মি. ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও দেখানোর পর (তাকে) একজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।'

দ্য টেলিগ্রাফে দেখা মামলার একটি নথিতে শিশু সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, ভিডিওগুলো দেখানো একটি 'ঘৃণামূলক অপরাধ' হিসাবে গণ্য হতে পারে।

এসব অভিযোগ ওঠার পর ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শিক্ষকতা করা এই ব্যক্তিকে কলেজ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, শিশু সুরক্ষা আইন ব্যবহার করে কথিত 'ডানপন্থী' দৃষ্টিভঙ্গির লোকদের সঙ্গে শিশুদের মেলামেশা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সর্বশেষ উন্মোচিত এই ঘটনানাটি এমনটাই দেখায়।

ব্রিটিশ ফ্রি স্পিচ ইউনিয়ন বিশ্বাস করে, খুনি এবং ধর্ষকদের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য তৈরি আইনগুলো এখন 'ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে'। শিক্ষকের ঘটনাটি রাজনৈতিক। এটি কেবল কাউকে চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য শিশু সুরক্ষা আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক বলেন, 'তারা আমাকে একজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে তুলনা করেছে। এটা সম্পূর্ণ বিরক্তিকর ছিল। এটা ডিস্টোপিয়ান, যেন জর্জ অরওয়েলের উপন্যাসের কিছু।'

শিক্ষক বললেন, 'আমরা মার্কিন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছিলাম, ট্রাম্প সবেমাত্র জিতেছেন এবং আমি ট্রাম্পের প্রচারণার কয়েকটি ভিডিও দেখাই। এরপর, আমার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়। একজন ছাত্র বলল যে, সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং দুঃস্বপ্ন দেখেছে বলে দাবি করলো।'

তিনি কলেজটিকে 'সম্পূর্ণ বামপন্থী পক্ষপাতদুষ্ট' বলে অভিযুক্ত করে আরও বলেন, 'তারা ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে কিছুই সহ্য করতে পারে না।'

ইত্তেফাক/এসকে