যশোরে তীব্র শীতে নাকাল জনজীবন

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৭

টানা তীব্র শীতে বিপর্যস্ত যশোরের জনজীবন। গত দুই দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পর রোববার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সারাদিন যশোরে সূর্যের দেখা মেলেনি। 

সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা বিরাজ করছে। মেঘলা আকাশে সকালেও সূর্য উঁকি দেয়নি। টানা চার দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।

যশোর বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার এ তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শনিবার ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং শুক্রবার ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ওই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।

সূর্যের দেখা না পাওয়ায় আগের দুই দিনের তুলনায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানান শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীতে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ভোর থেকেই জেলার আকাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘে ঢাকা। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন ভোরে কাজে বের হওয়া দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমিকরা।

প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট ও মাফলার পরে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। হাড় কাঁপানো শীতে অনেকেই ঘর থেকে বের হননি। যারা বের হয়েছেন, তারাও কাজের অভাবে পড়েছেন। শহরে মানুষের চলাচলও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।

শহরের দড়াটানা এলাকায় রিকশাচালক আমিরুল বলেন, কুয়াশা আর উত্তরের বাতাসের কারণে শহরে লোকজন কম। যাত্রীও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। শীতের জন্য রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘর ছেড়ে বের হতে হয়।

এদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় রবি ফসল, বোরো ধানের বীজতলা এবং মৌ খামারিদের মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জেলার আট উপজেলার মাঠে সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ও বোরো ধানের বীজতলা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

ইত্তেফাক/এএইচপি