বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর দেড় মাস বাকি থাকতেই ঢাকা সফর করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের মহাপরিচালক নূর আহমাদ নূর। তার এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এক সপ্তাহের সফরকালে নূর আহমাদ নূর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি কওমি মাদ্রাসাও পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ সাতজন ইসলামপন্থী নেতা ও পণ্ডিত আফগানিস্তান সফর করেছিলেন। তখন তারা তালেবান সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানা যায়। সফর শেষে মামুনুল হক জানিয়েছিলেন, তালেবান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। এর তিন মাসের মাথায় তালেবান সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকায় আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নূর আহমাদ নূরকে বাংলাদেশ সরকারিভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি। সে কারণে তার এই সফরকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কি না—সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২১ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান নূর আহমাদ নূর। সেখানে মাদ্রাসার শিক্ষক ও খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বৈঠকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের মহাসচিব মাহফুজুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করতে রাজি হননি। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ দাবি করেন, এটি কোনো দলীয় বৈঠক ছিল না।
তিনি বলেন, “দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের আমিরের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে।”
তালেবানের আন্তর্জাতিক অবস্থান
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর এখন পর্যন্ত রাশিয়া ছাড়া আর কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে স্বীকৃতি না দিলেও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। সম্প্রতি তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফরও আলোচনায় আসে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির বলেন, “ভারতের পর তালেবান সরকার সম্ভবত বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাচ্ছে। এই সফর সেটিরই অংশ হতে পারে।”
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আবু সায়েম খালেদ জানান, সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সরকারিভাবে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির বলেন, “এ বিষয়ে সরকারের উচিত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।”

