মাদক পাচার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপে বসার ঘোষণা মাদুরোর

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক পাচার ও তেল সংক্রান্ত বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, ওয়াশিংটন চাইলে তিনি এই সংলাপে বসতে প্রস্তুত আছেন। মাদুরো সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই আলোচনায় মাদক পাচার ছাড়াও তেল সম্পদ ও অভিবাসন ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে।

বিবিসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ৩০টিরও বেশি নৌযানকে নিশানা করেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষিত এই ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’র ফলে এ পর্যন্ত ১১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ গত বুধবার মাদক বহনের অভিযোগে দুটি নৌযানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী, যেখানে পাঁচজন নিহত হন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সিআইএ পরিচালিত একটি ড্রোন হামলায় ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং ফ্যাসিলিটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর বেরিয়েছে। যদিও মাদুরো এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কয়েক দিন পর আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহনে বিভিন্ন ট্যাংকার ব্যবহৃত হচ্ছে। গত ১০ ডিসেম্বর এমনই একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে ভেনেজুয়েলা ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। 

অন্যদিকে, ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে মাদুরো তার দেশের কারাগার ও মানসিক আশ্রমের বন্দিদের জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তারা মাদক পাচারের রুটগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে, তবে বিবিসি উল্লেখ করেছে যে এখন পর্যন্ত জব্দকৃত বা হামলার শিকার নৌযানগুলোতে মাদক থাকার কোনো অকাট্য প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি।

সূত্র: বিবিসি

ইত্তেফাক/টিএইচ