এজবাস্টনে অ্যাশেজের প্রথম দিনে স্টিভ স্মিথ সত্যিই কোনও যোদ্ধার চেয়ে কম ছিলেন না। শুধু স্টুয়ার্ট ব্রড, ক্রিস ওকস বা ইংল্যান্ডের অন্য কোনও বোলার ছিলেন না। তিনি লড়াই করেছিলেন বল বিকৃত কাণ্ডের কলঙ্ক মুছে ফেলতে। তিনি লড়াই করেছিলেন এক বছর বাদে আবার টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি লড়াই করেছিলেন ধসে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংকে একটা সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দিতে।
স্মিথ এ দিন ২১৯ বলে ১৪৪ করেছেন। মেরেছেন ১৬টি চার এবং দুটি ছয়। শেষ দুই উইকেটে পিটার সিডল এবং নেথান লায়নকে সঙ্গে নিয়ে স্মিথ যোগ করেন ১৬২ রান! ১২২ রানে আট উইকেট পড়ে যাওয়ার পরে দলকে তিনি পৌঁছে দেন ২৮৪ রানে।
এই পরিসংখ্যানও চমকে দেওয়ার মতো। কিন্তু নিছক পরিসংখ্যানে মাপা যাবে না এই সেঞ্চুরিকে। স্মিথের এই ফিরে আসার লড়াই নিঃসন্দেহে জায়গা করে নেবে ক্রিকেটের বীরগাথায়। তার ২৪তম সেঞ্চুরি হয়ে থাকবে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ইনিংস।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বল বিকৃতি ঘটিয়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন ক্রিকেট থেকে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফিরলেও এটাই ছিল সেই কলঙ্কিত ঘটনার পরে তার প্রথম টেস্ট। এ দিন অস্ট্রেলিয়া দলে স্মিথের নাম ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এডবাস্টনের দর্শকরা বিদ্রুপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিং নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম পেন। ইংল্যান্ডের জিমি অ্যান্ডারসন মাত্র চার ওভার বল করে চোট পেয়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু এক বোলার কম নিয়েও ব্রড (৫-৮৬) এবং ওকসের (৩-৫৮) সামনে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে স্মিথের সেঞ্চুরি। যে সেঞ্চুরির পরেও দর্শকদের একাংশ বিদ্রুপ করেছে। কিন্তু সেই সংখ্যাটা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ‘শত্রু’ গ্যালারিও উঠে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানকে।
ইত্তেফাক/কেআই
