৬২ বছর বয়সে গর্ভধারণ করে আলোচনায় চীনা নারী

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৬

চীনের জিলিন প্রদেশে ৬২ বছর বয়সী এক নারী ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী তার অনাগত সন্তানকে গত বছর হারানো একমাত্র ছেলের ‘পুনর্জন্ম’ হিসেবে দেখছেন। 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার একমাত্র সন্তানকে হারান, যাঁর শোক সইতে না পেরে তিনি এই বয়সে পুনরায় মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হংকংয়ের সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, এই নারীর ছোট বোন ‘শাও ওয়েই’ ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বড় বোনের গর্ভাবস্থার নিয়মিত আপডেট শেয়ার করছেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে ওই নারীকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও প্রফুল্ল দেখা গেছে এবং তিনি জানিয়েছেন যে তার গর্ভস্থ সন্তান বেশ চঞ্চল। চীনে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ আইনত নিষিদ্ধ হলেও, ওই নারী তার খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে মনে করছেন যে তিনি আবারও পুত্রসন্তানেরই জন্ম দিতে যাচ্ছেন। 

বয়সজনিত ঝুঁকির কারণে তাকে সাধারণ গর্ভবতীদের তুলনায় অনেক বেশি শারীরিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে নিজ শহর সংইউয়ান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে জিলিনের রাজধানী চাংচুনের বড় হাসপাতালগুলোতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান সেকশন ছাড়া অন্য কোনো নিরাপদ পথ নেই।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো নানা জটিলতার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। হারবিন ১ নম্বর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক চেন মিন জানিয়েছেন, নীতিগতভাবে তারা এই বয়সে গর্ভধারণকে সমর্থন করেন না। 

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, কোনো নারী যদি এমন সিদ্ধান্ত নেন তবে তার উচিত পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা করানো এবং জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সক্ষম বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রসবের ব্যবস্থা রাখা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে জনমত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল মনে করছেন, সন্তান বড় হওয়ার আগেই মা-বাবা মারা গেলে শিশুটি অসহায় হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, অনেকে এই শোকাতুর মায়ের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের বয়স্ক দম্পতিদের মানসিক স্বাস্থ্য ও তাদের শেষ বয়সের অবলম্বন নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। ছোট বোন শাও ওয়েই সমালোচকদের উদ্দেশে বলেছেন যে, একমাত্র সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা অনুভব করার ক্ষমতা সবার নেই এবং তার বোনের এই জেদের পেছনে গভীর মানসিক বেদনা কাজ করছে। 

বর্তমানে ওই নারী তার গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এই ঘটনাটি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাফল্য যেমন তুলে ধরছে, তেমনি বার্ধক্যে সন্তান লালন-পালনের সামাজিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

ইত্তেফাক/টিএইচ