৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সদস্য প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের, তালিকায় ভারতের সৌর জোটও

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৪

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক নির্বাহী আদেশে জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসরকারি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই আন্তর্জাতিক পরিসরে তার অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।

এই সিদ্ধান্তটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ। এর আওতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য অথবা অর্থদাতা, সেগুলো ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না তা খতিয়ে দেখতে।

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আচরণে ‘অন্যায্য’, সেসব সংস্থা থেকেই সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংস্থার মধ্যে রয়েছে আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এবং ভারতে সদর দপ্তর থাকা আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (আইএসএ)।

আন্তর্জাতিক সৌর জোট কী
আন্তর্জাতিক সৌর জোট গঠিত হয় কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির মধ্যবর্তী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সৌরশক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সহায়তার লক্ষ্যে। ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত কপ-২১ সম্মেলনের ফাঁকে এর ধারণা উত্থাপিত হয়। জোটটির সদর দপ্তর ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামে।

আইএসএর মূল লক্ষ্য ‘টুওয়ার্ডস ১০০০’ কৌশলের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরশক্তি খাতে এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ, এক বিলিয়ন মানুষের জন্য পরিষ্কার জ্বালানির সুযোগ সৃষ্টি এবং এক হাজার গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন।

২০২০ সালের সংশোধনের পর জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্র আইএসএতে যোগদানের যোগ্যতা পায়। বর্তমানে ১০০টির বেশি দেশ এর স্বাক্ষরকারী হলেও, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এখনো ধীর। এ তথ্য জানিয়েছে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। 

ট্রাম্পের আপত্তি ও নীতিগত অবস্থান
নবায়নযোগ্য শক্তির প্রতি ট্রাম্পের বিরোধিতা নতুন নয়। তিনি বরাবরই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে আমেরিকান কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনকে তিনি একাধিকবার ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যদিও বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

তার প্রথম মেয়াদে বিদেশে তৈরি সৌর প্যানেলের ওপর শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সৌরশক্তি খাতে কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সাম্প্রতিক রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ফেডারেল জমিতে মাত্র একটি সৌর প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু নীতি ও বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র/ দ্য ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেস

ইত্তেফাক/কেএইচ