দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা ছয় দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। কখনো মৃদু, কখনো মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের দাপটে হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও দরিদ্র পরিবারগুলো।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। রাতভর ঝিরিঝিরি হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়ে জনজীবন। ভোর থেকে নেমে আসে ঘন কুয়াশা, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। সকাল ৯টার পর সূর্যের দেখা মিললেও ১০টা পর্যন্ত রোদের তাপ ছড়াতে পারেনি।
চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা নয় দিন তেঁতুলিয়ায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি থেকে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এর মধ্যে ৯ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত টানা ছয় দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এই উপজেলাতেই। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে কখনো মৃদু, কখনো মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত প্রাণীর ওপরও। ভোরের কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা পেতে অনেক কৃষক গরু-ছাগলের গায়ে চট কিংবা কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন। পঞ্চগড় সদর উপজেলার গ্রামগুলোতে সকালবেলা চারদিক থাকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা। পথঘাটে নেমে আসে নীরবতা। প্রয়োজনের তাগিদে বের হওয়া মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। অনেক জায়গায় কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। তীব্র শীতের মধ্যেই কেউ কেউ ভ্যানে চড়ে কাজে যাচ্ছেন, আবার শিশুরা কাঁপতে কাঁপতে বিদ্যালয়ের পথে বের হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে সেটিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়, আর ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য হয়। তেঁতুলিয়ায় চলমান পরিস্থিতি এই দুই পর্যায়ের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, টানা নয় দিন ধরে এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালেও ঘন কুয়াশা ছিল। তবে দিনের বেলা রোদ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। রোদ উঠলে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমবে এবং মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে পারে।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। ঠান্ডা থেকে রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

