ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির রেণু আমদানির অনুমতি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৯

দেশে উত্পাদিত শতভাগ স্বয়ংসম্পন্ন লবণশিল্পের মতো এবার চিংড়িশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বময় চাহিদার শীর্ষে থাকা ভেনামি চিংড়ির পিএল (পোস্ট লার্ভা) উত্পাদনে মত্স্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ছয়টি হ্যাচারি নিয়মিত মানসম্মত পিএল উত্পাদন করছে। এরপরও অদৃশ্য কারণে আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে ভারত থেকে ভেনামি চিংড়ির ৪২ কোটি নাপলি (এক দিনের চিংড়ি রেণু) আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

এই সিদ্ধান্ত শুধু আইনবহির্ভূতই নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে দেশীয় চিংড়ি হ্যাচারিশিল্পকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে অভিযোগ করেছেন শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (শেব) নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কক্সবাজার শেব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও বিদ্যমান আইন অমান্য করে বিপুল পরিমাণ ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি দিয়েছে মত্স্য অধিদপ্তর, যা দেশের চিংড়িশিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য মারাত্মক হুমকি।

সংবাদ সম্মেলনের তথ্য অনুযায়ী, মত্স্য অধিদপ্তর গত ৩ ডিসেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে সাতক্ষীরার দেবহাটার পুরুলিয়া বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি দেয়। পরে গত ২৩ ডিসেম্বর ঐ অমুমতির ভিত্তিতে আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অনুমতি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ‘বিধা ফিশ ট্রেডার্সের কাছ থেকে এই নাপলি আমদানি করা হবে।

শেব নেতাদের দাবি, শুধু ভেনামি নয়, সম্প্রতি ব্ল্যাক টাইগার (বাগদা) ও গলদা চিংড়ির ক্ষেত্রেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নাপলি ও পিএল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এ অবস্থায় অবিলম্বে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি বাতিল, নীতিমালা বহির্ভূত সব অনুমোদন প্রত্যাহার এবং এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন শেবের সভাপতি লুত্ফর রহমান কাজল। এ সময় মহাসচিবসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমদানি বাতিল করা হয়েছে: মহাপরিচালক

হ্যাচারি মালিকদের সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে ভেনামি চিংড়ির আমদানি অনুমতি দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: আবদুর রউফ গতকাল রাতে ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত ৩ ডিসেম্বর যখন ভেনামি চিংড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তখন তা আমদানিনিষিদ্ধ ছিল না। গত ৭ জানুয়ারি এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপর আমরা আজ (বুধবার) ভেনামি চিংড়ি আমদানি যে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করেছি। ফলে এখন আর কেউ তা আমদানি করতে পারবে না ।

ইত্তেফাক/এমএস