নদী হারিয়েছে স্রোত, চরবাসী হারিয়েছে পথ

ব্রহ্মপুত্রের নাব্য সংকটে নাজুক ফুলছড়ির জনজীবন

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২১

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলবাসী ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে নিত্যসংগ্রামে জীবনযাপন করছেন। নদী এখন মৃতপ্রায় বালুচরে পরিণত, স্বাভাবিক স্রোত হারিয়েছে, আর চরবাসী হারাচ্ছেন পথ ও জীবনযাত্রার স্বাভাবিক সুবিধা।

ফুলছড়ির প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা চরাঞ্চল। ফলে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশকে বালুচরে বসবাস করতে হচ্ছে, যেখানে নেই নিরাপদ যোগাযোগ, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। নাব্য সংকটের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ, ফলে মানুষকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ হেঁটেই পাড়ি দিতে হচ্ছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

কৃষিতে উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ধান, ভুট্টা, পাট ও সবজির উৎপাদন থেকে কৃষকরা এখন লোকসান পাচ্ছেন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় দেশি মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। একসময় জাল ফেলে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা এখন কর্মহীন।

শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনের স্কুলযাত্রা কঠিন, আর চরাঞ্চলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নেই। মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতি মাকে উপজেলা সদরে পৌঁছে দিতে সময় লেগে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে।

ফুলছড়ির চরবাসীরা দাবি করছেন—বিচ্ছিন্ন ড্রেজিং নয়, পরিকল্পিত ও স্থায়ী নদীখনন করা হোক, তবেই বাঁচবে ব্রহ্মপুত্র ও চরাঞ্চলের মানুষ।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, “উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত পলি জমার কারণে ব্রহ্মপুত্রে নাব্য সংকট তীব্র। মাঝে মাঝে ড্রেজিং করা হলেও স্থায়ী সমাধান ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং।”

ইত্তেফাক/এএইচপি