গুম-খুনের শিকার পরিবারের পাশে থাকবে বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৮

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে থাকবে বিএনপি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বহু বছর দেশ, স্বজন, মানুষ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। আমার নেতাকর্মীদের বাইরেও এই স্বজনহারা মানুষ যারা সারাদেশে আছেন, দূর থেকে চেষ্টা করেছি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে। আমাদের সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করেছি, স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমরা কতটুকু পেরেছি বা পারিনি সেটার জবাব ভিন্ন। তবে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। হয়তো সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমাদের চেষ্টা অব্যাহত ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার করা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মীকে হতে হয়েছে গুমের শিকার। তাদের কিছু পরিবার এখানে আছে। ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লক্ষের বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার বোঝা ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীকে বহন করতে হয়েছে। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে থাকতে হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে কৌশলের নামে তার দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি। বরং রাজপথে থেকেই তারা আন্দোলন করেছে।

তারেক রহমান বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী এসব পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বিএনপি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব শহীদ পরিবারের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ করার আশ্বাস দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

এ সভায় অংশ নিয়েছেন সারাদেশ থেকে আসা গুম, খুনের শিকার পরিবারের স্বজনরা। তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বাসা-অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের প্রিয়জনদের তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই জানেন না-গুমের শিকার ব্যক্তিগুলোর শেষ পরিণতি কী হয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্তের দাবি জানান সভায় উপস্থিত স্বজনরা।

 
ইত্তেফাক/এমএএস