শাকসু নির্বাচনের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৫

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলে শিক্ষকদের একটি অংশের অভিযোগ বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দিকে চলে আসে। এজন্য তারা নির্বাচন পরিচালনায় অংশ নেয়ার থেকে বিরত থাকবেন। পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষকদেরও একইভাবে দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন।

অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল দখল করা হয়েছে। তখন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু পরে সেই নীতিমালা বাতিল করা হয়। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং আমাদের ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের আবারো দোষ দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। উপাচার্য এককভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো বিবৃতি দেননি।

অধ্যাপক আশরাফ উদ্দীন বলেন, গত ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি চিঠি পাঠায়, যাতে নির্বাচন স্থগিত করার অনুরোধ করা হয়। আমরা আশা করেছিলাম উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু তারা এককভাবে উপাচার্য ও ট্রেজারার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২৮ বছর বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা একসাথে কাজ করেছেন। কিন্তু ২৮ তারিখ হঠাৎ ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের একটি সংবাদ সম্মেলনের ভাষা ও বক্তব্য শিক্ষক সুলভ ছিল না। ছাত্রদের মধ্যে দুটি গ্রুপ গঠন হয়েছে—একটি নির্বাচনের পক্ষে, অন্যটি নির্বাচনের বিপক্ষে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার জন্য এবং সহাবস্থানের স্বার্থে নিরব থাকতে বাধ্য হয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমেদ এবং অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এএইচপি