গুয়াতেমালার বিভিন্ন কারাগারে ভয়াবহ সহিংসতা, জিম্মি নাটক এবং পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সপ্তাহান্তের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতে অন্তত সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ আদেশের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে আদালতের আগাম অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিক স্বাধীনতার ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সহিংসতার সূত্রপাত হয় গত শনিবার, যখন কারা কর্তৃপক্ষ কুখ্যাত ‘বারিও ১৮’ গ্যাং-এর প্রধান আলদো দুপি ওচোয়া মেহিয়া ওরফে ‘এল লোবো’-সহ শীর্ষ অপরাধীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এর প্রতিবাদে গ্যাং সংশ্লিষ্ট বন্দিরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানী ও আশপাশের তিনটি কারাগারে ৪৬ জন কারারক্ষী ও কর্মীকে জিম্মি করে ফেলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার ভোরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করে এবং কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে এই অভিযানের প্রতিশোধ নিতে গ্যাং সদস্যরা বাইরে পুলিশের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালালে সাতজন কর্মকর্তা প্রাণ হারান এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট আরেভালো এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, গ্যাং সন্ত্রাসীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া যাতে অপরাধ দমনের লড়াই থামিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, অপরাধীদের এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না এবং সরকার গ্যাং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মানে তিনি দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকও ঘোষণা করেছেন। জরুরি অবস্থার এই আদেশটি ইতিমধ্যে কার্যকর হলেও তা চূড়ান্তভাবে পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
গুয়াতেমালার সাধারণ মানুষ গ্যাং সংঘাতের এই চরম উত্তেজনার মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। সেনাবাহিনী ও বিশেষ পুলিশ ইউনিটগুলো বর্তমানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে যাতে আরও কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা না ঘটে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জরুরি অবস্থার আড়ালে সাধারণ মানুষের অধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট আরেভালো গ্যাং লিডারদের কঠোর নজরদারিতে রাখার এবং কারাগারগুলোতে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা।
