পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে রমরমা মাদক ব্যবসা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৭

চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিনোদন পিয়াসীদের অন্যতম প্রিয় স্থান পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের সমাগমে মুখরিত থাকে এ বিনোদন কেন্দ্র। তবে পর্যটকের পাশাপাশি এই এলাকাটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কারণ সৈকত ও আশপাশের এলাকায় হাত বাড়ালেই মদ, বিয়ারসহ নানা ধরনের মাদক পাওয়া যায়। চটপটি, ফুচকা ও আচারের দোকানের আড়ালে এই এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সৈকতসংলগ্ন বার্মিজ মার্কেটের ভেতর কয়েকটি আচারের দোকান ও চটপটির দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় করিম ও সাইমুন নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা বলে র্যাব জানিয়েছে।

র্যাব ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পতেঙ্গায় যেসব মদ ও বিয়ার পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই আসে মিয়ানমার থেকে। বঙ্গোপসাগর দিয়ে এসব চালান পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা উপজেলার উপকূলে খালাস করা হয়। এরপর তা কয়েক হাত ঘুরে পতেঙ্গাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে আসা বিভিন্ন জাহাজ থেকেও মদ, বিয়ার নামানো হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদক কেনাবেচা হয় যার ক্রেতা মূলত তরুণরা। পতেঙ্গা সৈকত ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর থেকে নেভাল একাডেমি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের প্রায় সব দোকানেই মদ, বিয়ার বিক্রি করা হয়। এসব দোকানে চটপটি, পেঁয়াজু, কাঁকড়া ভাজার পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মদ, বিয়ারও পরিবেশন করা হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শহর থেকে অনেকে মদ খাওয়ার জন্য পতেঙ্গা বিচে যায়। মিয়ানমার থেকে আসা মদ, বিয়ারের তুলনায় অন্য দেশের মদের দাম কিছুটা বেশি। অভিযোগ রয়েছে—সৈকত এলাকায় পুলিশ নিয়মিত টহল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা মাদক ব্যবসায়ীদের দেখেও না দেখার ভান করে। মাদক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা করছেন।

এ ব্যাপারে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্পল বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, পতেঙ্গা সৈকত ও নেভাল এলাকায় এখন আর মদ, বিয়ার বিক্রি হয় না। আমি আসার পর থেকে এই এলাকা শতভাগ মাদকমুক্ত।