গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৩ সাংবাদিকের মৃত্যু

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় এএফপির একজন ফ্রিল্যান্সারসহ অন্তত তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-জাহরা এলাকায় এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে বলে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

১০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এই হামলার ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নিহত সাংবাদিকরা হলেন— মো. সালাহ কাশতা, আবদুল রউফ শাআত এবং আনাস ঘনেইম। তাদের মরদেহ বর্তমানে দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা গাজা উপত্যকায় একটি ড্রোন পরিচালনাকারী ‘সন্দেহভাজনদের’ লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালিয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সাংবাদিকরা ড্রোনটি ব্যবহার করছিলেন কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং মিসরীয় রিলিফ কমিটির ত্রাণ বিতরণের দৃশ্য ধারণ করার জন্য।

তারা যখন একটি যানবাহনে করে কাজ করছিলেন, তখনই তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের এই দাবির বিপরীতে গাজার সিভিল ডিফেন্স এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো একে সংবাদকর্মীদের ওপর সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস এই হামলাকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ এবং সংঘাতের এক বিপজ্জনক মাত্রার উত্তরণ বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, এটি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর একটি পদ্ধতিগত নীতির অংশ।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও সাংবাদিকদের ওপর এমন সরাসরি আক্রমণ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই ধারাবাহিক সহিংসতা গাজায় শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টাকে ক্রমশ বাধাগ্রস্ত করছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।

বর্তমানে গাজায় মানবিক সহায়তার ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিকদের জীবন হারানোর এই ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের চরম ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: এএফপি

ইত্তেফাক/টিএইচ