হলুদ মাঠে মধুর খোঁজে চাষিরা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭

মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ আর মধু আহরণের মৌমাছির বাক্স চোখে পড়ছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায়। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। শীতকালের সরিষার মৌসুমে ফসলি মাঠে এই দৃশ্য গোটা উপজেলাজুড়ে দেখা যায়।

ফসলি মাঠের নির্দিষ্ট স্থানে শত শত মৌবাক্স সারি সারি সাজিয়ে মৌমাছির আবাস গড়ে তোলা হয়। এতে বিশেষ পদ্ধতিতে মৌচাক তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে মধু সংগ্রহ করা হয়।

মনিরুজ্জামান নামের একজন কৃষক জানান, এই সরিষা মৌসুমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌচাষীরা কলারোয়ার বিভিন্ন গ্রামের সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহের জন্য বাক্স স্থাপন করেছেন।

মৌচাষি আজহারুল ইসলাম বলেন, সরিষা ক্ষেত থেকে আমরা বছরে চার মাস মধু সংগ্রহ করি। অন্য আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌমাছি পুষে রাখা হয়। গত বছর মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌমাছি পালনে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। তখন সর্বত্র সরিষার ফুল ফোটে।

তিনি আরও জানান, আকার অনুযায়ী একটি বাক্সে ৩০-৪০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। এখানে মৌচাষের বিশেষ ১০০টি কলোনি রয়েছে। প্রতিটি কলোনিতে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। প্রতি কেজি মধু খুচরা বিক্রি হয় ৪০০-৭০০ টাকায়। ফলে প্রতিটি কলোনিতে প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা লাভ হয়। এছাড়া, মধু চাষের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কমে।

জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মৌচাষিরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বিগত কয়েক বছর ধরে সরিষা ফুলের মধু খাঁটি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করছেন। সরিষা ফুলে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার বাম্পার ফলনও হচ্ছে।

উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. জিয়াউল হক জানান, মৌচাষে উৎসাহিত করতে বিগত বছরের মতো এবারও তেলজাতীয় ফসলের ক্ষেতে মৌচাষ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ জন কৃষককে কয়েক শতাধিক মৌবাক্স ও মধু সংগ্রহ যন্ত্র বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। আমরা মধু চাষিদের সরিষার জমি থেকে মধু সংগ্রহে উৎসাহিত করি। এতে সরিষার পরাগায়ন যেমন ভালো হয়, তেলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। ফলে কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হন।

ইত্তেফাক/এএইচপি