জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত যোগাযোগ গভীর উদ্বেগের অশনিসংকেত: ফরহাদ মজহার

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩২

বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে। এই সম্পর্ককে তিনি ভবিষ্যত্ রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ আয়োজিত ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুত্ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী-যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে দলটি ক্ষমতায় এলে তাদের শরিয়াহ নীতি বা মার্কিন স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েও আগেভাগেই কৌশল সাজিয়ে রাখছে। ফরহাদ মজহার বলেন, এতে স্পষ্ট হয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াতের মধ্যে নীতিগত বোঝাপড়ার একটি জায়গা রয়েছে। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রভাবশালী ভূ-রাজনৈতিক শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর বলে মনে হয় না, যার বড় প্রমাণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণ। বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন- এই বাস্তবতায় ১৭ কোটি মানুষের ভবিষ্যত্ নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? ভারতীয় প্রভাব প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য প্রকটভাবে শোনা গেলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে বুদ্ধিজীবী মহলে তেমন আলোচনা নেই, যা এক ধরনের দ্বৈত মানসিকতার প্রকাশ। তিনি আরো যোগ করেন, আমি কোনো যুদ্ধ চাই না। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন এবং ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের কাছে মুখ্য হওয়া উচিত।

আলোচনাসভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল বক্তব্য দেন। বক্তারা বর্তমানে দেশে বিরাজমান গ্যাস, বিদ্যুত্ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। সভায় বক্তব্যে সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে ছাত্র-জনতা ও সৈনিকদের মৈত্রীর ভিত্তিতে। সৈনিকেরা কৃষক ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান। তাদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা বিপজ্জনক।

গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানির সংকট প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, এসব সংকট প্রাকৃতিক নয়, বরং কাঠামোগত ও রাজনৈতিক। বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা বাড়লেও জনগণ বিদ্যুত্ পাচ্ছে না, এটি লুটপাটমূলক ব্যবস্থার প্রমাণ। তিনি বলেন, উত্পাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদকরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা নিচ্ছে। আইন পরিবর্তন না করে এই সংকট দূর হবে না। বিশুদ্ধ পানির সংকট রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, নদী দখল ও বাণিজ্যিক লুণ্ঠনের ফল বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, জনগণের জীবনধারণের মৌলিক শর্ত খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও জমির ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই প্রকৃত রাজনীতি। নির্বাচন এখন লুটপাটের ভাগ-বাঁটোয়ারার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। জনগণের রাজনীতি মানে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা।

ইত্তেফাক/এএম