রামুতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৮

কক্সবাজারের রামুতে আলোচিত ডাকাত শাহীনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে ভাত খেতে বসা হতে ডেকে বের করে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা বেলতলী কাটা মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত শফিউল আলম লেদা পুতু (৩২) গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। নিহত শফিউলের দু’টি নাবালক সন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভাত খাওয়ার সময় জরুরি ফোন করে ডেকে শফিউল আলমকে ঘরের বাইরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় প্রতিপক্ষ ডাকাত ও সন্ত্রাসী আব্দুর রহিম অতর্কিত ঘটনাস্থলে শফিউল আলম প্রকাশ লেদা পুতুকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই শফিউল আলম লেদাপুতু মারা যান। তিনি ডাকাত শাহীনের সাম্রাজ্য সামলাতেন বলে প্রচার আছে। খবর পেয়ে গর্জনিয়া ফাড়ির এসআই মো. জুয়েল চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানান, রামু-নাইক্যংছড়ি সীমান্তের আলোচিত চোরাকারবারি ও ডাকাত বর্তমানে কারান্তরিণ শাহীন ডাকাতের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন নিহত শফিউল আলম লেদা পুতু। শাহীন ডাকাত কারান্তরিণ হবার পর হতে ওই জনপদে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে আব্দুর রহিম ডাকাত বেপরোয়া হয়ে উঠে। নিত্যদিন তার নানা অপরাধের দেয়াল হয়ে উঠছিল লেদাপুতু। 

নিহত শফিউলের স্বজনদের দাবি, এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে লেদাপুতু সাহসী হিসেবে আতঙ্ক ছিল। পথের কাটা দূর করতে তাকে লোকদিয়ে ডেকে বাড়ি থেকে বের করে অতি কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। ঘটনাস্থলের পাশেই ছিলো গর্জনিয়া ফাঁড়ি পুলিশের একটি টহল দল। ঘটনার ৫ মিনিটেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু পুলিশ পৌঁছার আগেই সন্ত্রাসীরা দলবেঁধে পালিয়ে যায়।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই দুর্বৃত্তরা শফিউলকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। হত্যাকারি চিহ্নিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

ইত্তেফাক/কেএইচ