বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় ৯টি বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাষানী খানের বাড়িসহ ৯টি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ৭দিনের মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। এসময় তার সমর্থকদের বাড়িতে লুটপাটসহ ৩টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান ভাষানী খান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। গত ১৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের একটি সভায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বাড়িগুলো তার কর্মী-সমর্থকদের।

এদিকে ভাষানীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা প্রথমে ভাষানীর বাড়িতে হামলা চালান। এসময় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা জড়ো হয়ে ভাষানীর সমর্থকদের আরও ৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরমধ্যে আরও তিনটি বাড়ির বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান ভাষানী বাড়িতে ছিলেন না। বৃহস্পতিবার তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানদের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন।

ভাষানীর শাশুড়ি রাশিদা বেগম বলেন, ‘মেয়ের জামাতা ও মেয়ে তাদের ছেলের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন। আমি বাড়িতে ছিলাম। ঘটনার সময় ককটেল বোমার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপর ১৫-২০ জন মানুষ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তার টাকা-স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। কেন এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখন বুঝতে পারছি না।’

হামলায় ভাষানীর সমর্থক ইদ্রিস খানের বাড়ি-বসতঘর ও ঘরের জিনিসপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সমর্থক ইদ্রিস খান বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম। এ কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ওই পক্ষটি কয়েক দিন ধরে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে সেখানে যান বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খজনক। এভাবে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অনুরোধ করেছি; হামলায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য। হামলাকারীরা যে দলের হোক তাদের আইনের আওতায় আনতে হবেই।

শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসূল বলেন, শৌলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ ৯টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় তিনটি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি