সমন পাঠাতে এসইসির আবেদন, একদিনে ১২.৫ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারাল আদানি গ্রুপ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৮

গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে সমন পাঠানোর জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ খবরে আদানি গ্রুপের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি গ্রিন, আদানি এন্টারপ্রাইজ, আদানি এনার্জি ও আদানি পোর্টসের শেয়ার সর্বোচ্চ ১৪–১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এক দিনের ব্যবধানে আদানি গ্রুপের তালিকাভুক্ত ১০টি কোম্পানির সম্মিলিত বাজারমূলধন প্রায় ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২ লাখ কোটি টাকায়।

মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি আদালতকে জানিয়েছে, এর আগে ভারত সরকারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দুবার সমন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে আলোচিত আইনি পদক্ষেপগুলোর একটি। গত বছর থেকেই আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানি ও তাঁর ভাইপো সাগর আদানিকে সমন পাঠানোর চেষ্টা করছে এসইসি।

রয়টার্স জানায়, বিদ্যমান সরকারি চ্যানেলে সমন পাঠানো সম্ভব হবে না—এমন আশঙ্কা থেকে এসইসি এখন সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে এই দুই নির্বাহীর কাছে সমন পাঠানোর অনুমতি চাইছে।

তবে আদানি গ্রুপ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। গ্রুপটির দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং নিজেদের রক্ষায় তারা সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে।

এসইসির সাম্প্রতিক আবেদনের বিষয়ে আদানি গ্রুপ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ভারতের আইন মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে এখনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে তারা বিষয়টিকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আইনি ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত অভিযোগে এসইসি দাবি করে, আদানি গ্রিন এনার্জির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে সুবিধা পেতে আদানি গ্রুপের নির্বাহীরা ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার একটি পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ ছাড়া কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের ভুল পথে পরিচালিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

আদালতের নথিতে এসইসি জানায়, স্বাক্ষর ও সিলসংক্রান্ত কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটির অজুহাতে ভারত সমন পাঠানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এসইসির যুক্তি হলো, হেগ কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনি সেবা সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় এসব শর্ত প্রযোজ্য নয়। গত ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বার অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সময় ভারতের আইন মন্ত্রণালয় এসইসির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

শেয়ারবাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে আদানি গ্রিনের শেয়ার ১৪ শতাংশ কমে ৭৭২ টাকায় নেমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ার ১১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬২ দশমিক ৮ টাকায়।

এ ছাড়া আদানি পোর্টসের শেয়ার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আদানি এনার্জির শেয়ার ১২ শতাংশ কমেছে। আম্বুজা সিমেন্ট, এসিসি ও আদানি টোটাল গ্যাসসহ গ্রুপের অন্যান্য সব শেয়ারও লোকসানে লেনদেন শেষ করেছে।

ইত্তেফাক/এমএএস