জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের সেই সাদ্দামের

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৩

জামিনে মুক্তি পেয়ে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ চাওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) জামিনে মুক্তি পেয়ে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে জুয়েল বলেন, ‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছে যে যদি বাগেরহাট থাকতে হয়, পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কারাগারে ঢোকার পর থেকে, আগের থেকে আমার বাগেরহাটের সংসদ সদস্য তন্ময় ভাই (বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়) আমার পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিছে। জেলে আমার পিসির টাকা, জামিনের টাকা, সম্পূর্ণ আমার ভাই...।’

সাদ্দাম ও তার পরিবার জানায়, গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ৬ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে জুয়েল হাসানকে (সাদ্দাম) বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ২২ জুলাই ২০২৫ বাগেরহাট থেকে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানন্তর করা হয়। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ করেছেন সাদ্দাম।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ওই বন্দী শুরু থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। বিভিন্নজনকে গালাগাল এমনকি মারধরও করেছেন। নিরাপত্তার জন্য তাকে সেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চলাচলটা সংরক্ষিত থাকে। সেল কোনো শাস্তির জায়গা নয়।

কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, আচরণের কারণেই তাকে যশোরে পাঠানো হয়েছিল। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। আর জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলে স্থানন্তর করতে পারেন না। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, এর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) নামে এক গৃহবধূ ‘আত্মহত্যা’ করেন। শুক্রবার ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ এবং ঘরের মেঝে থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল। স্বজনরা বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আবেদন করলেও সেটি যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছায়নি। পরে ডিসির বাংলো থেকে স্বজনদের জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি অনুমোদন হয়নি। তাই পরিবারের সদস্যরা সাদ্দামের মৃত স্ত্রী-সন্তানের লাশ নিয়ে আসেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। শনিবার সন্ধ্যায় জেলগেটে স্ত্রী-সন্তানকে শেষবিদায় জানান সাদ্দাম। এ অবস্থায় তাকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

ইত্তেফাক/এপি