গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে মন্ডল গ্রুপের ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, শ্রমিক ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে শ্রমিকেরা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হলেও পরে আবার মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
কারখানার শ্রমিকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মালিকপক্ষের কাছে বাৎসরিক ছুটির টাকা দাবি করে আসছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। রোববার বিকেলে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করলে মালিকপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। এতে কয়েক শ্রমিক আহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে প্রচণ্ড অসন্তোষ বিরাজ করে। দাবি আদায়ে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে সড়কে নামলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস শেল ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে।
আসাদ নামের কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আলোচনা চলছে, এখনো কোনো সমাধান হয়নি। তবে খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা চলছে।’
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ট্রপিক্যাল নিটেক্স কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
