গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি বেড়েছে। সংকট কাটিয়ে বাজারে সরবরাহও অনেক বেড়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি চলছে। ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার এখনো ১৭০০ থেকে ১৭৫০ টাকায় বিক্রি চলছে। এতে খুচরা ক্রেতাদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। খুচরা বাজার মনিটরিং না থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
গত চার মাস যাবত বাজারে এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। মাঝখানে খুচরা বাজার থেকে এলপিজি উধাও হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়ে ক্রেতারা। আমদানি কম হয়েছে এই কারণে এলপিজি নিয়ে বাজারে সংকট তৈরি হয়। এতে বিপাকে পড়ে এলপিজি ব্যবহারকারীরা। পরে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে এলপিজি আমদানিতে জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়। এর ফলে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এলপিজি আমদানিতে গতি ফিরে আসে। বেড়েছে এলপিজি আমদানি।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র জানায়, দেশে এলপিজির মাসে চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এলপিজি আমদানি কম হলেও পরে আমদানি বেড়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ২৬ মেট্রিক টন ও জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফ্রেরুয়ারি মাসে আমদানি আরো বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান এখন স্পর্ট মার্কেট থেকে এলপিজি আমদানি করতে হচ্ছে। স্পর্ট মার্কেটে দাম কিছুটা বাড়তি। পরিবহন খাতে জাহাজ ভাড়াও বেড়ে গেছে।
বর্তমানে এলপি গ্যাস সংকট নিয়ে ভোক্তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকার এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ নিলেও আমদানিতে গতি আসেনি। আমদানিকারকরা জানান আন্তর্জাতিক বাজারে দামও বাড়তি। এলসি নিয়ে ব্যাংক ঋণ সমস্যায় আমদানি বিঘ্ন হচ্ছে। আমদানিকারকরা সরকারকে আশ্বাস দিলেও আমদানিতে গতি বাড়েনি। এতে আগামী রমজান মাসে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীদের বাড়তি টাকা গুনতে হবে।
জানতে চাইলে ডেল্টা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এস এম নাছির আল মামুন বলেন, ‘মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির সংকট বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টন ১৬০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এখনো ২০ ডলার বাড়তি। অনেকেই জানুয়ারি মাসে আমদানি করতে পারেনি। তবে ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি অর্থাত্ রমজান মাস শুরুর আগে এলপিজি সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে। ইউরোপে এখনো শীতের প্রভাব বিরাজ করায় এলপিজির বাড়তি চাহিদা রয়েছে।’
যানবাহনে গ্যাস সরবরাহে নিয়োজিত অটোগ্যাস স্টেশনগুলো এলপিজি সংকট কাটেনি। যানবাহন অটোগ্যাস পাচ্ছে না। দেশে ১ হাজারের মতো অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনের মাসে চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার টন। অটোগ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘দেশে ১ হাজারের ওপরে অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে। এখনো প্রায় ৬০ শতাংশ অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ রয়েছে। যারা পাচ্ছে তারাই স্টেশন চালু রেখেছে। এলপিজি আমদানি বাড়লেও এখনো সংকট চাহিদা অনুসারে আমদানি হয়নি।’

