যে দেশে কখনো যাননি, সে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৩

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলবে ইউরোপের দেশ ইতালি। এই দেশটির হয়ে খেলবেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম ও দেশটির হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা জে জে স্মাটস। ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন, অথচ কখনও দেশটিতে যাননি তিনি। মূলত স্ত্রীর মাধ্যমে ইতালির নাগরিকত্ব পেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন স্মাটস।

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলবে ইতালি। সেদিন ইতালির হয়ে খেলতে নামলেই ইতিহাস গড়বেন জে জে স্মাটস। ইতালি ভ্রমণ না করলেও স্মাটসের দাবি, ইতালিয়ান মানসিকতা তিনি ইতিমধ্যেই কিছুটা বুঝে গেছেন এবং নিজেকে এই দলে মানিয়ে নিতে পারছেন। 

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে স্মাটস বলেন, ‘ইতালিয়ান মানুষ খুবই আবেগপ্রবণ। আমরা যখন খেলি, সেই আবেগটা মাঠে ফুটে ওঠে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের প্রথম জয়টা আমি নিজে দেখেছি ও অনুভব করেছি। আমরা এখন বিশ্বাস করি, এমন দলগুলোর সঙ্গেও আমরা লড়তে পারি।’

 ইউরোপের আঞ্চলিক বাছাই টুর্নামেন্টে ইতালি দলে ছিলেন না স্মাটস।  তবে ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশনের সঙ্গে তার আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে আমাদের কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু সূচি, ঘরোয়া লিগের চুক্তি, এসব কারণে তখন কিছুই চূড়ান্ত করা যায়নি।’

JJ Smuts spanks one through the off side, Durban's Super Giants vs Paarl Royals, SA20 2025, Durban, January 23, 2025

৩৭ বছর বয়সে এসে ইতালির জাতীয় দলে ডাক পেয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন স্মাটস। যা কখনও তিনি কল্পনাও করেননি। স্মাটস বলেন,  ‘আমি কখনো ভাবিনি বিশ্বকাপ খেলব। তবে নিজেকে সব সময় আন্তর্জাতিক মানের জন্য প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করতাম। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি, কিন্তু যতটা খেলেছি, তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কী তা বুঝেছি। শেষ দিকে কয়েকটি ম্যাচে ভালো করেছিলাম, সেখান থেকেই আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। জানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কতটা কঠিন, কিন্তু এটাও জানি যে এখনো আমি অবদান রাখতে পারি।’

২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে স্মাটস দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৬টি ওয়ানডে ও ১৬টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তার ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স আসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে। যেখানে তিনি করেন ৮৪ রান ও ৪২ রানে নেন ২ উইকেট।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কাঠামোর ভেতরের অস্থিরতা ও দলে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে স্মাটস নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। এ নিয়ে আক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব ক্রিকেটারই মনে করে, আরও লম্বা সময় খেলতে পারত। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা সব সময়ই দারুণ সব ক্রিকেটার তৈরি করেছে। আমাদের দলে বিশ্বমানের তারকা অনেক, প্রতিযোগিতা খুব কঠিন। তাই কয়েকটা ম্যাচ খেলে আবার ছিটকে পড়া খুব স্বাভাবিক।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ